প্রায়শ্চিত্ত

পর্ব ৩

আকমল সাহেব নামাজের কথা ভুলে গেলেন! আজকাল তার প্রায়ই এমন হচ্ছে,কেনো হচ্ছে তিনি নিজেও বুঝতে পারেন না!বিজ্ঞান বলে, চল্লিশ বছর বয়সের পর বেশিরভাগ মানুষ আলঝেইমারে ভোগেন , চল্লিশ তো কবেই পেরিয়েছে! তাদের তথ্য সঠিক হলে হয়ত তাই হচ্ছে। তিনি ফুলবানুর রেখে যাওয়া পান চিবাচ্ছেন আরাম করে,সাথে কাঁচা সুপারী আর ময়মনসিংহের স্বদেশী বাজার থেকে তৈরী করে আনা রিপনের দোকানের মিক্চার জর্দা। এই জর্দার প্রস্তুতকারককে কোলে তুলে নাচা উচিত না মাথায় তুলে আছাড় মারা উচিত তা তিনি ভেবে সুরাহা করতে পারেন না! শুধু অনুমান করতে পারেন এই জর্দা দিয়ে মুখে একটা পান দেওয়ার পর তার রাগ, দুঃখ- কষ্ট, অভিমান সবই ফিকে হয়ে যায়। বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়ে বালিশে মাথা রেখে পাশ ফিরতেই জানালা দিয়ে দেখলেন বৃষ্টি থেমে হালকা রোদ উঠেেছে। নবনীতা হেঁটে বাড়ির দিকেই আসছে, পেছনে ঝাঁকা ভরতি মাছ নিয়ে আসছে ফজর আলী। মনে হয় বেশ মাছ ধরা পড়েছে কারন ফজর আলী হাঁটতে গিয়ে বাঁকা হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু নবনীতা হাঁটছে ধীরপায়ে। হালকা বৃষ্টিতে বাগানের পথটা পিচ্ছিল হয়ে আছে,গায়ের কাপড় গুলোও মনে হচ্ছে ভেজা! মাছ ধরা দেখার আনন্দ রেখে হয়ত মেয়েটির আসতে ইচ্ছে করেনি তাই ভেজা কাপড়েই এতক্ষণ পুকুর ঘাটে বসে ছিল। আকমল সাহেব খেয়াল করলেন হাঁটতে হাঁটতে নবনীতা মোবাইল ফোনে কার সঙ্গে যেন হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে,হাঁটার ভঙ্গিটা অবিকল মধুমিতার মতো! এই বাড়িতে মধুমিতার কোন স্মৃতি নেই অথবা তিনি রাখেননি কিন্তু চাইলেই কি আর সব মুছে ফেলা যায়! মানুষ যে কিছু সৃষ্টিও করতে পারে না আবার ধংসও করতে পারে না এটা তিনি এখন বেশ বুঝতে পারেন।যতই দিন যাচ্ছে মেয়েটি অবিকল মায়ের ফটো কপি হয়ে উঠছে! অথচ বাড়ির দেয়ালে মধুমিতার কোন ছবি নেই এমন কি তার ব্যবহার্য কোন জিনিসপত্র ও নেই! ! কবর হয়েছে বাপের বাড়িতে। নবনীতা ও পারোমিতা জানে তাদের মা কে ভুলে থাকার কষ্ট কমাতেই বাবা এ ব্যবস্থা নিয়েছেন। মেয়েরাও কখনো বাবার কষ্ট বাড়াতে চায়নি! তারা প্রসঙ্গক্রমে মায়ের কথা তুললে আকমল সাহেব বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান কিন্তু আজকাল নবনীতা সামনে এলেই মধুমিতাকে মনে পরে যায়! কে জানে মধুমিতা বেঁচে থাকলে দেখতে তাকে এখন কেমন দেখাত! রূপ লাবণ্য কমে সে কি বুড়িয়ে যেতো! গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেন আকমল সাহেব।

কবি আঞ্জুমান আরা খান

কবি, ছড়াকার ও কথাসাহিত্যিক সম্পাদক, জলছবি বাতায়ন সাহিত্য সম্পাদক, আজ আগামী ২৪ ডটকম প্রকাশিতব্য গ্রন্থ : শ্রেষ্ঠ অনুবাদ গল্প ফেসবুক আইডি : facebook.com/anjumanara.khan.587
সকল পোস্ট : আঞ্জুমান আরা খান

১৩ thoughts on “প্রায়শ্চিত্ত

  1. চাইলেই কি আর সব মুছে ফেলা যায়! না যায় না! মানুষ যে কিছু সৃষ্টিও করতে পারে না আবার ধংসও করতে পারে না এটা তিনি এখন বেশ বুঝতে পারেন।

    সুন্দর উপলদ্ধির প্রকাশ।

  2. বিছানাপত্র, চি‌ঠিপত্র এই পত্র মূল শ‌ব্দের সা‌থে বস‌বে।

    নবনীতা সাম‌নে নক‌লে না আস‌লে, সে কথা থাক। নবনীতা সাম‌নে এ‌লেই লিখ‌লে বাক‌্যটি ত্রু‌টিমুক্ত হয়।

  3. চাই‌লেই কি আর সব মু‌ছে ফেলা যায়! পাঠ‌ক উত্তর খুঁ‌জে নিক। লেখ‌ক বিস্ময় প্রকাশ ক‌রে আবার নি‌জেই সহজ ক‌রে দি‌লেন ‘না যায় না ব‌লে।’ আমার কা‌ছে সঠিক ম‌নে হয়‌নি।

    চলুক।

মন্তব্য করুন