দেব না বিলাপে বিবৃতি

বিলাপে বিবৃতি
আজ আর আমি দিই না।
অভিমানি মুখ, চোখ,চোখের জল
গড়িয়েও পরে না।
মোমির চোখে ক্ষয়ে
যাওয়া কাজলের মতো
লেপ্টে সেঁটে গেছে, ষোলআনা ভাবে।

রুপ -লাবণ্য, বিশ্বাসের চিত্রনাট্য
জীবনের শূণ্য পাত্রটিতে আজ শুধু
নাম ধরে ডাকে প্রহরে প্রহরে।
জোস্নাময় ইচ্ছেগুলো, বেহিসাবী স্বপ্ন
খেয়ালি পদভ্রমের ভূলে
নিশীথের শেষ প্রহরের মতো
আজ ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, বর্জ্জ্বিত।

উপনৈবেসিক সীমাহীন পর্বগুলো
করুণার ভিক্ষা, আর মাগে না।
বৈরী মনে, আত্মঘাতের ক্ষত চিহ্নে
চাতকের মৃত্যু হয়েছে সেই
কবেই শুক্ন ভগ্নডালে।

অপেক্ষার চিরচেনা পথে
সার্থকতা আর ব্যর্থতার পার্থক্যগুলো
বেহিসাবী খাতায়—
সিঁড়ি ভেঙে, সাবান জলে,
স্নান ঘাটে বেশ- করে কেচে
দিয়েছি “নিরুদ্ধ বিদায়। “

নিভুলের সেই পলাতকটা
–আজ পুনঃরায় এসেছে।
ঝিমিয়ে পরা পোয়াতি অলোস দুপুরে
থমকে যাওয়া, হ্নদয়ের রক্তক্ষরণ,
একটু মুছিয়ে হালকা করে-
আলগা করতে বোধহয় চেয়েছে।

কিন্তুু! বাহারি যে সময়, বয়ে গেছে—
তাতো এখন পরিত্যক্ত;
পরিমার্জিত করে কি লাভ?
বিছানো তো যাতনার চাষাবাদ।

আলস্যের কাফনে জড়ানো
অযত্নের এ তনুটি ;
নৈঃশব্দ্যে অশুদ্ধ– যে চয়নগুলো
অস্পুটিত শব্দের গাঁথুনিতে
বেলাশেষে কে আর শোনে?
অসময়ে ইচ্ছেরা কি আর পেখম মেলে?

মনের গাঙে, মেঘ বিদ্যুৎ এর গল্প
চৈত্রের দাবদাহ, চিতার মতো এখন শুধু জ্বলে।
স্বপ্ন উল্লাস, উজানি ঢেউয়ে–
মন পবনের নাওয়ে চড়ে
লুব্দ স্বপ্নহীন “ভিক্ষারীণি শৈব্যার “
“স্বপ্নবিষ্ট দেবতা “এলো কি তবে?
অন্তহীন অপেক্ষার বার্ধক্য
বিলাপে বিবৃত আর দেবোনা তবে???

১৭/০৪/২০২১ইং

কবি সোনালী দেবনাথ

সকল পোস্ট : সোনালী দেবনাথ

৫ thoughts on “দেব না বিলাপে বিবৃতি

  1. আলস্যের কাফনে জড়ানো
    অযত্নের এ তনুটি ;
    নৈঃশব্দ্যে অশুদ্ধ– যে চয়নগুলো
    অস্পুটিত শব্দের গাঁথুনিতে
    বেলাশেষে কে আর শোনে?
    অসময়ে ইচ্ছেরা কি আর পেখম মেলে?
    — খুব চমৎকার করে বলেছেন আপনি।
    শুভেচ্ছা সতত।

  2. কবিতাটির ভাবার্থ এককথায় অনন্য! শব্দ চয়নে মুন্সীয়ানা আছে অস্বীকার করার জো নেই! আমি পাঠে মুগ্ধ হয়েছি।তবে শিরোনামটা নিয়ে একটু দ্বিধায় আছি!
    দেব না- ঈশ্বর বা ভগবান নয়।
    দেবো না-দেওয়ার ইচ্ছে নেই।

  3. কবিতাটির ভাবার্থ এককথায় অনন্য! শব্দ চয়নে মুন্সীয়ানা আছে অস্বীকার করার জো নেই! আমি পাঠে মুগ্ধ হয়েছি।তবে শিরোনামটা নিয়ে একটু দ্বিধায় আছি!
    দেব না- ঈশ্বর বা ভগবান নয়।
    দেবো না-দেওয়ার ইচ্ছে নেই।
    কবিতায় দুই/একটি বানান এদিক ওদিক হয়েছে এছাড়া সবকিছুই অসাধারণ! বানান আমিও ভুল করি। এখানে আমরা একে অপরের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো যতটা সম্ভব কারণ নিজের ভুল নিজে অতটা ধরা সম্ভব হয় না! আপনার লেখা আমার খুব পছন্দের।শুভকামনা থাকল কবি আপনার জন্য।

  4. ‘‘মনের গাঙে, মেঘ বিদ্যুৎ এর গল্প
    চৈত্রের দাবদাহ, চিতার মতো এখন শুধু জ্বলে।’’– কবিতাটির সৌন্দর্য এখানেই ব্যক্ত হয়েছে মনে করি। এই দুটি লাইন পুরো কবিতার প্রাণ। অসাধারণ শব্দচয়ন ও রূপক।

    কবির জন্য শুভকামনা।

মন্তব্য করুন