তৃতীয়জন

 পর্ব-১

টং দোকানে এক কাপ চা খেয়ে চাপা আনন্দ আর উত্তেজনা নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো পা রাখলো অংশু। মফস্বলে বেড়ে ওঠা নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের ছেলের জন্য দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারার আনন্দ কাউকেই বোঝানো সম্ভব নয়। মহল্লায় এক নামে সবাই চেনে অংশুকে। যেমন মেধাবী, তেমনি ডানপিটে! পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডে কোথায় থাকে না সে। লুকিয়ে বন্ধুদের সাথে সিগারেট টানার বদনামও আছে তার। গ্যাঞ্জাম ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়ে বার দুয়েক শালিসেও নাম লিখিয়েছিলো। সৎসঙ্গ নয়, সর্বসঙ্গ পছন্দ তার! পাড়ার বৌমনিরা আদর করে নাম দিয়েছিলো ‘চকলেট বয়!’ 

যাক সেকথা। মফস্বলের ছেলেদের জন্য শহুরে নতুন জীবন, নতুন গণ্ডি কেমন হবে, বন্ধুরা সব মনের মতো হবে তো? এইসব নানাবিধ ভাবনা ভাবতে ভাবতে সারারাত কেটেছে নির্ঘুম। কখন যে বাস ফেরি পার হলো, কোথায় থামলো, কোথায় যানজটে পড়লো কিছুই খেয়াল করার সুযোগ পায়নি। ক্যাম্পাসের অনাগত দিনগুলি নিয়ে নানা ধরনের দুশ্চিন্তা ভর করেছে ডানপিটে ছেলেটির মনে। নতুন নতুন সবকিছুর ভীড়ে নিজেকে ভীষণ নতুন লাগছে আজ। এসব ভাবনা মন থেকে বারবার তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেও পারছে না তাড়াতে। 

-‘হ্যালো, মিস্টার?’ ‘হ্যালো?’ হঠাৎ একজনের ডাক শুনে হকচকিয়ে উঠলো অংশু। ফিরে তাকিয়ে দেখলো অনিন্দ্যসুন্দর একটি মেয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

-‘জি, আপনাকেই বলছি। এনি প্রবলেম?’ 

অংশু নিজেকে সামলে নিয়ে জানালো,’ না না, কোনো সমস্যা না।’ 

-‘তাহলে এই যে এতোক্ষণ ধরে ডাকলাম, সাড়া দিলেন না যে?’ 

অংশু কী বলবে বুঝতে না পেরে স্মিত হেসে বললো,’আসলে…!’ 

-‘থাক, বাদ দিন। মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টটা কোন দিকে বলতে পারবেন?’ 

নিজের ডিপার্টমেন্টের নাম শুনে অংশু একটু আনন্দ বোধ করলো। নিশ্চয় এই মেয়েটিও আজ প্রথম ভর্তি হতে এসেছে। 

-‘মাইক্রোবায়োলজি? আপনি কি আজ ভর্তি হতে এসেছেন?’ 

-‘এই হচ্ছে আপনাদের সমস্যা।’ মেয়েটি বিরক্তি নিয়ে বললো, ‘জানতে চাইলাম ডিপার্টমেন্ট কোন দিকে? আপনি সাতসতেরো শুরু করলেন। থাক! বলতে হবে না!’ কথাগুলো বলে মেয়েটি হনহন করে হাটতে শুরু করলো। 

কিছুটা বিব্রত হলো অংশু। নিজের ভুল বুঝতে অবশ্য সময় লাগলো না। এই হলো শহুরে জীবনের নমুনা! নিজেকে নিজেই বোঝালো অংশু। এখানে আন্তরিকতা আর সারল্যের খুব বেশি মূল্য নেই। অপরিচিত একজনের কাছ থেকে সন্ধান নিয়ে ডিপার্টমেন্টে পৌঁছে গেলো অংশু।

হলরুমে প্রবেশ করতেই দেখলো প্রায় অর্ধশতাধিক ছেলেমেয়ে চেয়ারগুলো দখল করে বসে আছে। একেকটি মুখ যেনো বিজয়ের হাসিতে ভরা। এই হাসিমুখগুলো দেখে সদাহাস্যজ্বল পাড়ার দুষ্টু মেয়ে কাকলীর কথা মনে পড়লো ঠিক এই মুহুর্তে। ‘আমি হইলাম চার্মিং রোজ!’ অজান্তেই মুখে একটু হাসি ফুটে উঠলো। বিরাট হলরুমে এমন বিজয়ীদের মাঝে নিজেকে দেখে বেশ আনন্দ হলো তার। শেষের দিকে একটি ফাকা চেয়ারে বসে পড়লো অংশু। আশেপাশের অনেকের সাথেই পরিচিত হলো, স্বল্প বাক্যবিনিময় করলো। সকলেই অপেক্ষা করছে শুভক্ষণের জন্য। 

কিছুক্ষণ বাদেই কয়েকজন শিক্ষক প্রবেশ করলেন হলরুমে। রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে ভর্তি প্রক্রিয়া, হোস্টেলে রুম বরাদ্দ সবই বিস্তারিত বুঝিয়ে বললেন কো-অর্ডিনেটর মহোদয়। ডিপার্টমেন্টের রুলস এন্ড রেগুলেশনস, ক্লাসরুটিনসহ যাবতীয় বিষয়গুলো আলোকপাত করলেন শিক্ষকগণ। পরিশেষে সকলকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে শেষ করলেন ডিপার্টমেন্ট প্রধান। 

হলরুম থেকে বেরিয়ে সারাদিন কেটে গেলো ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে। এরই মধ্যে কয়েকজন বন্ধু জুটে গেলো অংশুর। আবীর, সাদমান, সাব্বির, কাকন, কামাল। এরমধ্যে সাব্বির নামের ছেলেটি অংশুর সাথে একই হলে উঠবে। তাই ওরা সবাইকে বিদায় জানিয়ে নিজেদের হলের দিকে হাটা শুরু করলো। 

সারাদিনের ব্যস্ততা কাটিয়ে সাব্বির আর অংশু হলে নিজেদের রুমে এসে উঠলো। রাতের খাওয়া সেরে জানালার ধারে বসে দুইজন বেশ কিছুক্ষণ গল্প করলো। নিজেদের গল্প, পরিবারের গল্প, বন্ধু বান্ধবীর গল্প…কখন যে রাত গভীর হয়ে গেলো…

২। 

আজ ছুটি। সাব্বির আর অংশু কেনাকাটার জন্য বেরিয়ে পড়লো। কাল থেকে ক্লাস শুরু। আজকের মধ্যেই কেনাকাটা সেরে নতুন জীবন গুছিয়ে নিতে হবে। জীবনের নতুন অধ্যায়ে নতুন করে রচিত হবে ওদের জীবন। মিশ্র এক অনুভূতি। ভৈরবের জল বুড়িগঙ্গায় এসে মিশেছে। খুব মনে পড়ছে পরিবারকে, মনে পড়ছে বন্ধুদের। মনে পড়ছে হুল্লোড় করে কাটানো জীবনের প্রতিটি আনন্দময় ক্ষণ। মনে পড়ছে মায়ের সাথে খুনসুটি করে কাটানো সময়গুলো, বোনের সাথে দুষ্টুমি আরও কতো কী যে মনের মাঝে ডালপালা মেলেছে… ডানপিটে অংশুর কাছে বড্ড পানসে লাগছে সময়গুলো। তবুও মধ্যবিত্ত মনকে অশান্ত হতে দেওয়া চলে না। জীবনের এই বুঝি শুরু। 

বেশ বেলা পর্যন্ত কেনাকাটা সেরে একটা সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে দু’জনা হলের দিকে ফিরছিল। মহিলা হোস্টেলের পাশ কাটিয়ে যখন যাচ্ছিল, তখন সাব্বির অংশুকে আঙুল দিয়ে একটি মেয়েকে দেখিয়ে বললো, ‘ভিসি স্যারের মেয়ে! আমাদের সাথেই ভর্তি হয়েছে। শুনলাম বাসা ছেড়ে হলেই উঠবে! আদিখ্যেতা তাই না বল?’ মেয়েটিকে এক ঝলক দেখে অংশুর চেনা চেনা লাগলো। কিন্তু ঠিক মনে করতে পারলো না। ওর অবশ্য প্রায়ই এরকম মনে হয়। রাস্তাঘাটে অনেককেই চেনা চেনা লাগে, কিন্তু মনে করতে পারে না। সাব্বিরের কথায় শুধু মাথা নেড়ে উত্তর দিলো।

বিকেলে সাদমান, আবীর এলো সাব্বিরদের রুমে। অনেক আড্ডা হলো। সাদমান গিটার বাজিয়ে গান ধরলো….

‘ভালবাসা কোন পেসমেকার নয়
কোন এক বুকে নেবেই যা আশ্রয়
ভালোবাসা তো মুক্ত হাওয়া বহু মনে খুঁজে পাওয়া
নানা রাগে কোমল গান তার…!’ 

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো। গোধূলির আলো ফুরোবার আগেই ওরা সবাই আবীরের সন্ধান মতো বটতলার চায়ের দোকানে চা খেতে চললো। ওরেব্বাস! এ যে পুরো ভার্সিটির মিলনায়তন! মনে হয় কেউ বাকি নেই! অংশু অবাক হয়ে গেলো। গোধূলির আকাশে তখনো আবীর রঙ মিলিয়ে আঁধার নামেনি। কৃষি ডিপার্টমেন্টের ফসলের প্রজেক্টগুলোর পাশে এই বটতলা যেনো অংশুকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলো নিজের মহল্লায়! মোকছেদের বটতলায় বসে বন্ধুদের সাথে খুনসুটি, দুরন্তপনায় মেতে ওঠা, ইতিউতি চেয়ে সিগারেটে ফুঁ দেওয়া…আহা স্বাধীনতা… 

-‘কীরে? একটান দিবি?’ সাদমানের খোঁচা খেয়ে সম্বিৎ ফিরে পেলো অংশু৷ সিগারেটটা হাতে নিয়ে এদিক ওদিক দেখে ঠোঁটে গুঁজে নিলো। মনে হলো কতোকাল পরে আবার মোকছেদের বটতলায় ফিরে এসেছে! কিছুক্ষণ বটতলায় কাটিয়ে সাদমান, আবীরকে বিদায় জানিয়ে হলের দিকে পা বাড়ালো অংশুরা।

ক্যাম্পাসের নির্জনে আবছা আলো ছায়ায় মধুর সময় কাটাচ্ছে প্রেমিক প্রেমিকার দল। সাব্বির টিপ্পনী কেটে ফিসফিস করে বললো, ‘একদিন এরাই দেখবি একজন আরেকজনের শত্রু হয়ে উঠবে। আবেগে টানাপোড়েন হলেই চক্ষুশূল হয়ে উঠবে একে অন্যের।’ অংশু মুখে আঙুল দিয়ে কথা বলতে নিষেধ করলো। ভার্সিটির কিছুই জানে না ওরা। এখন সাবধানে থাকাই শ্রেয়। সাব্বিরকে বললো, ‘চল! তাড়াতাড়ি ফিরে যাই। আর হ্যাঁ শোন, ভালোবাসার সাথে প্রত্যাশার কোনো সম্পর্ক রাখতে নেই, প্রত্যাশা ভালোবাসাকে গলা টিপে হত্যা করে।’ কথাগুলো শুনে অবাক হয়ে সাব্বির অংশুর দিকে তাকিয়ে একটু থামলো। নতুন এক অংশুকে আবিষ্কার করলো মনে হলো! প্রসঙ্গ ঘুরাতে গিয়ে  চলতে চলতে  সাব্বির অংশুকে জিজ্ঞাসা করলো, ‘দোস্ত, আমরা যখন সিগারেট ফুঁকছিলাম, তখন একটা জিনিস খেয়াল করেছিস?’

‘কী জিনিস?’ অংশু ঠিক বুঝতে পারলো না। 

‘অই মেয়েটি, আরে ভিসি স্যারের মেয়েকে দেখলাম ওখানে। ‘সাব্বির খুলে বললো। অংশু কোনোকিছু না ভেবেই বললো, ‘ওদের তো এই ক্যাম্পাস পরিচিত, তাই ইচ্ছেমতো ঘুরতে পারবে। তার উপর বাবা আবার ভিসি!’ দু’জনে হেসে উঠলো। 

সাব্বির এবার একটু সিরিয়াস মুডেই বললো,’আরে না, ব্যাপারটা অন্যখানে। একটা ছেলের সাথে দেখলাম!’ 

অংশু এবার একটু বিরক্তি নিয়ে বললো, ‘তাতে তোর সমস্যা কী?’ 

সাব্বির জানালো, ‘সমস্যা কিছুই না। কিন্তু আমাদের দিকে বারবার তাকাচ্ছিল কেনো এই ব্যাপার নিয়ে আমার মনের মধ্যে খটকা লাগছে!’ 

অংশু আরও বিরক্ত হয়ে বললো, ‘তোর সবকিছুতেই কিন্তু খোঁজা স্বভাব না কি? একই ডিপার্টমেন্টের বলেছিলি না? তাহলে হয়তো পরিচিত ভেবেই তাকাচ্ছিল। বাদ দে এসব, চল…কাল থেকে ক্লাস শুরু কিন্তু। ‘ 

ক্যাম্পাসজুড়ে রাত নেমে এলো। ব্যস্ত নগরীর কোলাহল ভেসে এলো আঁধার ভেদ করেই…(চলবে)

কবি নীলকণ্ঠ জয়

একজন সাধারণ মানুষ। সম্পাদনাঃ অবসরে কিছুক্ষণ, কালের লণ্ঠন। সহ-সম্পাদনাঃ জলছবি বাতায়ন। নির্বাহী সম্পাদক এবং প্রশাসক(মডারেটর): জলছবি বাতায়ন। কাব্যগ্রন্থঃ দহনকালের কাব্য (২০২১), জলছবি প্রকাশন। সায়েন্স ফিকশনঃ ক্রেপাসকুলার (২০২০), জলছবি প্রকাশন। কিশোর অ্যাডভেঞ্চারঃ নাথু দ্য গ্রেট (২০১৯), জলছবি প্রকাশন।
সকল পোস্ট : নীলকণ্ঠ জয়

১৫ thoughts on “তৃতীয়জন

  1. সৎসঙ্গ নয়, সর্বসঙ্গ পছন্দ তার! পাড়ার বৌমনিরা আদর করে নাম দিয়েছিলো ‘চকলেট বয়!’ —এই লাইনটা ভালো লেগেছে।

    মেয়েটি বিরক্তি নিয়ে বললো, ‘জানতে চাইলাম ডিপার্টমেন্ট কোন দিকে? আপনি সাতসতেরো শুরু করলেন। থাক! বলতে হবে না!’ কথাগুলো বলে মেয়েটি হনহন করে হাটতে শুরু করলো। —— চিরন্তন।

    -‘জ্বি, আপনাকেই বলছি। এনি প্রবলেম?’ ——- জ্বি বানানটা জি হবে।

    বেশ বেলা পর্যন্ত কেনাকাটা সেরে একটা সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে দু’জনা হলের দিকে ফিরছিলো। মহিলা হোস্টেলের পাশ কাটিয়ে যখন যাচ্ছিলো,– উর্ধ
    কমার দরকার নেই। ফিরছিলো, যাচ্ছিলো- এগুলো ক্রিয়াপদ। ক্রিয়াপদে ল ব ছ ত থাকলে ওকার লাগে না। তবে অনুজ্ঞায় দিতে হবে।

    ক্যাম্পাসজুড়ে রাত নেমে এলো। ব্যস্ত নগরীর কোলাহল ভেসে এলো আঁধার ভেদ করেই…(চলবে)— পর্ব শেষের লাইনটা চমৎকার হয়েছে।

    তোমার লেখা উপন্যাস এই প্রথম পড়লাম। গদ্য পড়েছি আগেই। তোমার সাবলীল গল্প বলা পছন্দ আমার। বর্ণনায় বাস্তবতার সঙ্গে মিল আছে। আকাশ-কুসুম কিছু নেই।

    নিরন্তর শুভেচ্ছা রইল।

    এই যে, এত কথা মন্তব্যে বলতে পারলাম, ফেসবুকে কি সম্ভব ছিল। এই জন্য ব্লগ আমার পছন্দ। তবে সেটা হতে হবে জলছবি বাতায়ন। তোমাদের ভালোবাসায় জলছবি বাতায়ন বেঁচে থাকবে। তবে একটু খাটতে হবে। একটু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

    নিরন্তর শুভ কামনা।

    1. গুরুজি, ফেসবুক শেখার যায়গা নয়। আমি বিশ্বাস করি এভাবে নির্দেশনা পেলে সবাই জলছবিতে ফিরে আসবে। আপনার আশির্বাদ মাথায় নিয়ে চলতে চাই। ভুলগুলো এভাবেই শুধরে দিবেন।

      1. আমি সংশোধন করে দিতে পারতাম। তাতে কাজের কাজ কিছু হতো না। ভুল যা হয় এখানেই বলব আমরা। যারা পছনদ করে না, তাদেরকে এড়িয়ে যাবো। জলছবি অনন্য হয়ে উঠবে একদিন, তবে তোমাকে পাশে থাকতে হবে।

        1. ভুলগুলো এভাবে শুধরে দেবার এখন কেউ নেয় আর বর্তমান ডিজিটালে অনেকে বানান মুখস্ত না করে মেশিনের উপর নির্ভরশীল হয়েছে।

          এভাবেই ভুল শুধরে দেওয়া অনেক অনেক ধৈর্য্যের ও সময়ের ব্যপার। আপনাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা রইল।

  2. একটি লেখা শুরুতেই যখন পাঠে আগ্রহ তৈরী করে তখন এটাকে আলাদা করে ভালো কিংবা চমৎকার বলার দরকার মনে করছি না।শুধু বলছি চালিয়ে যান।বাকীসব কিছু দাদা বলে দিয়েছেন। কিছুই বাকী রাখেননি।শুভকামনা রইল ছোটভাই।

মন্তব্য করুন