জলছবি প্রকাশন

সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান

Home »

ধারাবাহিক  উপন্যাস : পর্ব ৩

তৃতীয়জন

রাত ২ টা বেজে গেছে ঘড়িতে। রুমের মধ্যে অস্থিরভাবে পায়চারী করছে সাব্বির। শেষ বিকালে অংশুকে বিদায় দিয়ে এসেছিল, এখনো ফেরেনি সে৷ ফোনে কন্টাক্ট করার জন্য বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে সিনিয়র ভাইয়েরা আল্টিমেটাম দিয়ে গেছেন হল থেকে কেউ যেনো বের না হয়। কিছুই ভালো লাগছে না ওর। জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাল। মন খারাপ করা পরিবেশ। মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলছে চাঁদ। থমথমে আলো-আঁধারে ঢেকে আছে ক্যাম্পাস। অংশুর জন্য দুশ্চিন্তা ভর করেছে। যাচ্ছেতাই চিন্তাভাবনা উঁকি দিচ্ছে মনের মধ্যে।

ঠক…ঠক…ঠক… দরজায় টোকা দিচ্ছে কেউ একজন। একমুহূর্তও দেরি না করে ছুটে গেল দরজার দিকে। নিশ্চয় অংশু ফিরেছে। দরজা খুলতেই শিউরে উঠল সাব্বির!

‘চলো আমাদের সঙ্গে! ‘ একদল ছেলে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে সাব্বিরের মুখ চেপে ধরে একপ্রকার জব্বরদস্তি করে টেনে নিয়ে চলল। হলের ছেলেরা অধিকাংশই এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। শুনশান নীরবতা ভেদ করে এতোবড় একটি ঘটনার সাক্ষী শুধু রাতের প্রহরগুলো। মাঝরাতে কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ কানে এলো না। মুহুর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়ল সাব্বির। কেউ একজন চোখটা বেঁধে ফেলল। চারিদিকে এখন শুধুই অন্ধকার।

একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে আসা হলো সাব্বিরকে। চোখ থেকে বাধন খুলে দিল কেউ একজন। চোখ খুলে দেখল একটি চেয়ারে বসা কালো চেহারার একজন লোক তার দিকে কটকট করে চেয়ে আছে। রুমে কয়েকটি নীতিবাক্য আর শুভেচ্ছা বার্তা জানানো ব্যানার ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিরাট মাপের একটি কাঠের ফ্রেমে বাধানো রয়েছে কালো চেহারার লোকটির ফটো। নিচে বড় বড় হরফে লেখা আছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রনেতা জনাব মোঃ আব্দুল কাদির! সাব্বির অবাক হয়ে ভাবতে লাগল এই বয়স্ক লোকটি কীভাবে ছাত্রনেতা হতে পারে! ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে! কিছু বলার সাহস না হওয়ায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।

বেশ কিছুক্ষণ পর ছাত্রনেতা কাদির মুখ খুললেন। দরাজ গলায় খেকিয়ে উঠে বললেন, ‘নাম কী?’

‘জি, সাব্বির আহমেদ’ শুকনো গলায় যেনো কথা বের হতে চাইছে না।

‘মিনমিন করছিস ক্যান? ভয় লাগে? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যা জিজ্ঞাসা করব, ঝটপট বলে ফেলবি। লুকোচুরি করলে চীরতরে আওয়াজ বন্ধ করে দিব।’ ছাত্রনেতা কাদির কড়া হুশিয়ারি দিয়ে সাব্বিরের চোখের দিকে কটমট করে চেয়ে রইলো। মানুষের চোখ যে এতোটা ভয়ানক হতে পারে সাব্বিরের জানা ছিল না। হিংস্র হায়েনার চোখের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। শুধু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল সে।

‘গুড! ভেরি গুড! আই লাইক ইউর কার্টেসি!’ উপহাসের সুরে মুখ বাকিয়ে বললেন, ‘অংশুমান তোর রুমমেট, তাইতো?’

সাব্বির মাথা নেড়ে জানাল, ‘জি!’

‘তো, সারাদিন কোথায় ছিলি দুজনে?’ গোয়েন্দার মতো জেরা শুরু করল ছাত্রনেতা। চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে যেনো!

‘ক্লাস শেষ করে বই কিনতে গিয়েছিলাম দুপুরে। বিকেলে আমি ফিরে এসেছি কিন্তু অংশু একজন রিলেটিভের বাড়িতে গিয়েছিল। সন্ধ্যার মধ্যেই ফেরার কথা ছিলো কিন্তু আর কোনো খোঁজ পাইনি।’ সাব্বির যেটুকু বলার মাথা নিচু করে বলে ফেলল।

‘ব্যাস! এটুকুই?’ কুটিল হেসে নেতা বললেন, ‘ভালোই স্ক্রিপ্ট সাজিয়েছিস দেখছি!’ কথাগুলো শুনে ঘরের ভেতরে থাকা চ্যালাচামুণ্ডারা হো হো করে হেসে উঠল। সাব্বির দিশেহারা বোধ করল। যা সত্য ঠিক সেটুকুই বলেছে সে। কী থেকে কী হচ্ছে কিছুই মাথায় আসছে না তার। অংশুর খোঁজ নেই, ওর এখানে জেরার মুখে পড়া, এগুলোর কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছে না। শুধু মনে হচ্ছে ভয়ানক কোনো বিপদে পড়তে যাচ্ছে। নিজের কথা বিশ্বাসযোগ্য করাতে অনুনয়ের সুরে বলল, ‘বিশ্বাস করুন ভাই, আমি এর বেশি আর কিছুই জানি না।’

‘চুপ! একদম চুপ!’ ধমক দিয়ে সাব্বিরকে থামিয়ে দিল নেতা। ‘তুই জানিস, কার সামনে দাঁড়িয়ে আছিস? এই বিশ্ববিদ্যালয় কাদিরের কথায় ওঠে আর বসে। কাদিরের সাথে যে-ই পাল্লা দিতে এসেছে, একদম শুইয়ে দিয়েছি। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে দ্বিতীয়বার ভাবে না কাদির।’ একরকম রুদ্রমূর্তি ধারণ করে ফেলল ছাত্রনেতা কাদির। চোখ দিয়ে আগুন বেরিয়ে আসছে যেনো।

সাব্বির কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। সে বুঝল এই ট্রাপ থেকে সে বের হতে পারবে না। মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করল। নেতার নির্দেশমতো সাব্বিরকে রুমে রেখে আসলো নেতার চ্যালাগুলো। মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিল তারা। প্রতিবাদ করা কিংবা না করার অধিকার হারিয়ে ফেলেছে সে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ক্যাম্পাস থেকে বাইরে বের হওয়া একদম নিষিদ্ধ। অংশু না ফেরা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে থাকবে সে।

ভোর পর্যন্ত ক্যাম্পের সোফায় বসে আছে অংশু। ওসি তদন্ত কখন আসবেন, সেই অপেক্ষা। মাথার ঠিক উপরে একটি বাতি ঝুলে আছে। ময়লা জমতে জমতে আলোর তেজ যথেষ্ট কমে গেছে। ফ্যান ঘুরছে জোর করেই। ভ্যাপসা পরিবেশ। ছোট্ট পরিসরে ক্যাম্পাসের ক্যাম্পগুলো হয়তো এমনিই হয়। ‘তনু এখন কেমন আছে? জ্ঞান ফিরেছে তো?’ এই প্রশ্নের উত্তর পেতে ছটফট করছে মনটা। কিছুতেই অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। ওর সাথে কী এমন হয়েছে, কেনো রিকশাওয়ালা কেটে পড়ল, হোস্টেলের গেট ধরে এতো ধাক্কাধাক্কি, এতো চিৎকার করা সত্ত্বেও কেনো কেউ এগিয়ে এলো না, কেনো কেউ সাড়া পর্যন্ত দিলো না! এইসব নানা প্রশ্ন অস্থির করে তুলছে অংশুকে। জগতটাকে ভীষণ অচেনা মনে হচ্ছে। কোন অপরাধে তাকে তদন্ত ওসির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কিছুই মাথায় ঢুকছে না তার।

ভোরের আলো ফুটতে আর হয়তো অল্প কিছুক্ষণ বাকি আছে। মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ শোনা গেলো, নিস্তব্ধতা ভেদ করে আযানের সুর ভেসে আসছে। জনমানবশূন্য আঁধারের নগরীতে প্রাণসঞ্চার শুরু হবে কিছুসময়ের মধ্যে, কোলাহলে মুখরিত হবে ক্যাম্পাস।

একজন পুলিশ অফিসার এসে বসলেন চেয়ারে। উনিই তদন্ত ওসি। অংশু দাঁড়িয়ে সালাম জানালো। হাতের ইশারায় অংশুকে সামনের চেয়ারে বসার নির্দেশ দিলেন তিনি। নীরবতা ভেঙে ভরাট গলায় প্রশ্ন শুরু করলেন, ‘কেনো এসব ঝঞ্জাটে জড়ান বলেন তো?’

সারাদিনের ঘটনাপ্রবাহ অংশুকে এতোটাই অস্থির করে তুলেছে যে, রাখঢাক ছাড়াই উল্টো জিজ্ঞাসা করলো, ‘একজন মুমূর্ষু মানুষকে বাঁচাতে চাওয়া কি অপরাধ স্যার?’

‘অবশ্যই অপরাধ!’ মুখের কথা কেড়ে নিয়েই উত্তর দিলেন অফিসার। ‘মানবিক জ্ঞান থাকা এই জগতে সবচেয়ে বড় অপরাধ। আর আপনার তো অপরাধের অভাব নেই! শুনবেন? রাত দুপুরে হল থেকে বের হয়েছেন! হতেই পারেন, কিন্তু মাতাল হয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরেছেন! ঘুরতেই পারেন, কিন্তু মহিলা হোস্টেলের সামনে উচ্ছৃঙ্খলতা করেছেন! করতেই পারেন, কিন্তু একজন মেয়েকে ডেকে নিয়ে… ‘

‘প্লিজ, প্লিজ থামুন স্যার!’ অংশু নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না! অফিসার কী বলছেন এসব?

‘মি. অংশু, খুব বিস্মিত হলেন, তাই না?’ অফিসার একগাল হেসে বললেন, ‘শুনুন, আপনি বড্ড বেশি ফেসে গেছেন ভাই! একটুপরে আপনার নামে এইসব অভিযোগ যাবে ভাইস চ্যান্সেলরের রুমে। ক্যাম্পাসজুড়ে আপনার বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হবে। বিস্ময়! তাই না?’ অফিসার ঠোঁট বাঁকিয়ে মুচকি হাসলেন! ‘ভাবছেন, এতোকিছু আমি কী করে জানলাম?’ এবার একটু অট্টহাসি হেসে বলে উঠলেন, ‘অভিজ্ঞতা ভাই, অভিজ্ঞতা! আপনি বড্ড বেশি ফেসে গেছেন!’ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন অফিসার।

অংশুর কাছে সবকিছু অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। পৃথিবীটা যেনো ছোট হয়ে আসছে। দরদর করে ঘাম ঝরছে শরীর বেয়ে অথচ ধমনিজুড়ে অদ্ভুত শীতলতা নেমে আসছে। নিজেকে পালকের মতো হালকা লাগছে, যেনো বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাবে এক্ষুণি…সামনে শুধু আগুন আর আগুন…বাতাস উড়িয়ে নিয়ে সেই আগুনে ফেলতে চাইছে তাকে… চেয়ারের হাতলটা শক্ত করে ধরে ফেলল!

‘না!’ মুখ থেকে একটিমাত্র শব্দ বের হয়ে এলো। সম্বিত ফিরে পেয়ে অংশু অফিসারের দিকে তাকাল। লোকটির চোখ শিকারি বিড়ালের মতো চেয়ে আছে তার দিকে। মুখে করুনার হাসি। ঠিক ভরসা করার মতো কি না বোঝা গেল না। অংশু বুঝে গেছে এই যুদ্ধে তাকে একাই লড়তে হবে। কাউকেই পাশে পাওয়া সম্ভব নয়, এমনসব অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের পাশে কেউ থাকবেই বা কেন! সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে এখন কেউ তাকে বিশ্বাস করবে না; একমাত্র রাতের আবছায়া ক্যাম্পাস ছাড়া আর কেউ নয়!

অফিসার আবার হেসে বললেন, ‘মি. অংশু, আপনি একদিক থেকে অনেক ভাগ্যবান! আমাদের অফিসাররা আপনাকে তুলে এনেছে বলেই আপনি এখনো নিরাপদে আছেন!’ অংশুর বিবর্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘জানেনতো, কিছু যুদ্ধ একাই লড়ে যেতে হয়!’ কনুই ভর করে হাতটা মুখের নিচে রেখে বললেন, ‘তবে এক্ষেত্রে আপনি আবারও ভাগ্যবান। আপনার এই আসন্ন যুদ্ধে অনেকেই আপনার পাশে আছে। আপনার সামনের সময়গুলো কঠিন, কিন্তু আমি আপনার সাথে থাকতে চাই। শুধু আমি নই, আরও অনেকেই আপনার পাশে থাকবে। শুধুমাত্র আপনি সাহস আর শক্ত ভূমিকা রাখতে পারলে ক্যাম্পাস থেকে একটুকরো বিষাক্ত জঞ্জাল সাফ করে ফেলতে পারব।’

কথাগুলো বিশ্বাস হচ্ছিলো না, কিন্তু বুকে মধ্যে হঠাৎ জমে ওঠা পাথরটা যেনো নেমে গেলো। সাহস সঞ্চার হলো পালকের মতো উড়ে যেতে চাওয়া মনে। সে এখনো জানে না, একটুকরো জঞ্জাল বলতে কী বুঝিয়েছেন অফিসার। শুধু বুঝতে পারল একটি মিথ্যার বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াইয়ে তাকে অনেক কিছুই স্যাক্রিফাইস করতে হবে।

অফিসার আরমান অংশুকে একটি ঠিকানা লিখে দিলেন চিরকুটে আর একটি মোবাইল নম্বর৷ অংশুকে সন্ধ্যায় ওই ঠিকানায় যোগাযোগ করতে বলা হলো। বিদায়ের আগে আবারও একগাল হেসে নির্ভয় দিয়ে বললেন, ‘ক্লাসে যাও নির্ভয়ে, ক্যাম্পাসে যাও নির্ভয়ে, গত রাতের ঘটনা কেউ যেনো জানতে না পারে। কিছুই ঘটেনি, বুঝলে?’ একচোখ টিপে মুচকি হাসলেন অফিসার। এই হাসি নির্ভরতার হাসি। অংশু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। ‘আর হ্যাঁ, এখন থেকে ইন্দ্রিয়ের ইশারা বুঝতে শিখো। সর্বদা চোখ কান খোলা রেখে সজাগ আর সতর্ক থেকো। ক্যাম্পাসে এখন তোমার শত্রু জুটে গিয়েছে। সন্ধ্যায় যথা ঠিকানায় যথা সময়ে চলে যেয়ো। সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। এখন নিশ্চিন্তমনে ক্যাম্পাসে যাও, ক্লাস করো।’ অংশু অফিসারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বের হতে লাগল। পিছন থেকে অফিসার হাক দিয়ে জানালেন, ‘ও হ্যাঁ, তনু সুস্থ আছে।’

অংশুর ব্যকুল হৃদয় কথাটি শোনার পর সব ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে উৎফুল্ল হয়ে উঠল। জমে ওঠা রাশিরাশি ধুলো ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ক্যাম্পাসের পথে পা বাড়ালো… সবুজ পাতাগুলো মিষ্টি হেসে অপরূপ সেজেছে আজ… পূবালী হাওয়া শীতল পরশ বুলিয়ে দিয়ে গেলো… রাতভর বেড়ে ঘাসগুলো বলছে এই আয়োজন শুধু তোমার জন্য হে প্রিয়, এসো সখা…এসো। আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠা শহরের কোলাহল জানিয়ে দিলো, ‘অনেক সয়েছি…এ বৈঠা তুমিই ধরো…।’ (চলবে)

 

Name of author

Name: নীলকণ্ঠ জয়

Short Bio: একজন সাধারণ মানুষ। সম্পাদনাঃ অবসরে কিছুক্ষণ, কালের লণ্ঠন। সহ-সম্পাদনাঃ জলছবি বাতায়ন। নির্বাহী সম্পাদক এবং প্রশাসক(মডারেটর): জলছবি বাতায়ন। কাব্যগ্রন্থঃ দহনকালের কাব্য (২০২১), জলছবি প্রকাশন। সায়েন্স ফিকশনঃ ক্রেপাসকুলার (২০২০), জলছবি প্রকাশন। কিশোর অ্যাডভেঞ্চারঃ নাথু দ্য গ্রেট (২০১৯), জলছবি প্রকাশন।

১৪ Replies to “”

মন্তব্য করুন