ইচ্ছেঘুড়ি

একদা ইচ্ছে ছিল-একটা বাইসাইকেল হবে চৌধুরীদের পিচ্চি ছেলেটার মতো। ওরটা লাল, আমারটা নীল! আমিও পিচ্চি ছিলাম তখন। গোঁ ধরার মতো পরিস্থিতি ছিল না বলেই হয়নি, এটুকু বুঝতাম, গোঁ ধরা চৌধুরীদের ছেলেদের মানায়!

একদা ইচ্ছে ছিল-একটা বাইক হবে আমার। কলেজের শহুরে ছেলেরা বাইক হাঁকিয়েই ক্লাসে আসে! ফেল মারুক, তাতে কী? মিস ইউনিভার্সগুলো ঠিকই তাদেরই হয়ে যায়। আমাদের, মানে আমার মতো অনেকেরই তখন বাইসাইকেল হয়েছে একটা করে। বন্ধু রাশেদ একদিন তার সাইকেলটা বিক্রি করে দিতেই চেয়েছিল! ‘এই চিড়িয়া আর রাখুম না, সাবিনা কইছে আমারে না-কি খ্যাঁতখ্যাঁত লাগে!’ আমরা বলেছিলাম, ‘তুই ইঞ্জিনিয়ার হবি, তখন সাবিনারা তোর পিছনে লাইন দিবে!’ রাশেদ এখন ইঞ্জিনিয়ার, জানিয়ে দিয়েছে বিয়েথা আর করবে না।

ইচ্ছে ছিল- সবাইকে নিয়ে পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়াব, পারি না। সময় আমাকে হার মানায়। একদা আমার অফুরান সময় আসবে… তখন হয়তো জীবন আমাকে হার মানাবে!

ইচ্ছেঘুড়িটা লাটাই ছেড়ে এভাবেই খোলা আকাশে উড়ে বেড়ায়। মরে যাওয়া ইচ্ছেরা সময়ে অসময়ে নাড়া দেয়।

কবি নীলকণ্ঠ জয়

একজন সাধারণ মানুষ। সম্পাদনাঃ অবসরে কিছুক্ষণ, কালের লণ্ঠন। সহ-সম্পাদনাঃ জলছবি বাতায়ন। নির্বাহী সম্পাদক এবং প্রশাসক(মডারেটর): জলছবি বাতায়ন। কাব্যগ্রন্থঃ দহনকালের কাব্য (২০২১), জলছবি প্রকাশন। সায়েন্স ফিকশনঃ ক্রেপাসকুলার (২০২০), জলছবি প্রকাশন। কিশোর অ্যাডভেঞ্চারঃ নাথু দ্য গ্রেট (২০১৯), জলছবি প্রকাশন।
সকল পোস্ট : নীলকণ্ঠ জয়

৮ thoughts on “ইচ্ছেঘুড়ি

  1. লেখাটি সংক্ষিপ্ত তবে এর মর্মার্থ ব্যাপক।দৃশ্যপট খুব চেনা বলেই লেখাটি আপন মনে হবে সবার। এটি লেখকের বড় প্রাপ্তি।ভালোলাগা থেকে দু’বার পড়েছি ভাইয়া!

মন্তব্য করুন