জলছবি প্রকাশন

সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান

Home » অনেক কথা (পর্ব ৫)

অনেক কথা (পর্ব ৫)

ঐশ্বরিক—

আমি কোনো ধর্মের বিপক্ষে নই—অসুন্দরের বিপক্ষে। সেটা হিন্দু হোক মুসলিম কিবা বৌদ্ধ হোক খ্রিস্টান এবং যেধর্মই হোকনা কেন, প্রত্যেক ধর্মে কিছু-না-কিছু বিশ্রী জিনিস যোগ আছে আর সেটা প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীকে বাদ দিয়ে সঠিক ও সুন্দরের পথটা বা কাজটা অবলম্বন করা জরুরি কিবা কর্তব্য। যেই স্রষ্টা হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর, সেই স্রষ্টা আর যাই করুক, অন্তত ধর্মে এমন অসুন্দর কিছু যোগ করতে পারেন না। আমার মতো এক জনেরই যদি মনে হয়, এটা একটা বিশ্রী বা অসুন্দর কিবা অমার্জিত জিনিস অথবা পথ, তা হলে বুঝতে হবে, এটা স্রষ্টার সৃষ্টি বা আদেশ নয়। আমি যদ্দূর জানি, হতে পারে এটা আমার মনের ধারণা—আল্লাহ্‌কে পাওয়ার লক্ষ্যে দূরপাল্লার যাত্রার কোনো দরকার নেই। আল্লাহ্‌ যদি কারো মঙ্গল করতে চান এবং কেউ যদি আল্লাহ্‌র সস্তুষ্টি অর্জন করতে চায়, তা হলে সেটার জন্যে কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। হাঁ, মুসলিমদের জন্যে আল্লাহ্‌ মক্কার তাওয়াফ ও মদিনার জিয়ারত প্রসিদ্ধ করে রেখেছেন এবং সামর্থ্যবানদের জন্যে এটা ফরজ করে রেখেছেন। এরচেয়ে মুসলিমদের জন্যে বড় কোনো পুণ্যস্থান নেই এবং মহা কোনো সম্মেলন বা মিলনের জায়গাও নেই। কতইনা সুন্দর সেই ডাক “লাব্বায়িক্‌ আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক্‌। লাব্বায়িক্ লাশরিকালাকা লাব্বায়িক্‌। ইন্‌‌নাল্‌‌হাম্‌‌দা ওয়ান্নিয়ামতা লাকাওয়াল্‌ মুল্‌‌ক্‌ লাশরিকালাক্‌” এরপরে কিসের লক্ষ লক্ষ পুণ্য এবং কিসের মহাসম্মেলন আর কিসের দূরপাল্লার যাত্রা বা চিল্লা! এর প্রতিষ্ঠাতা কে? কোনো নবিরাসুল? আমরা নবিরাসুলকে যেখানে অনুসরণ করতে পারিনি, সেখানে কোনো মোল্লামৌলবিকে রহমতউল্লা আলাই বা রাদিআল্লাহু আনহুর তকমা লাগিয়ে অনুসরণ করছি কেন? মানুষ আসলেই আজব জীব। ভালমন্দ চিন্তা করবে দূরে থাক, হুজুকে ছুটবে, হুজুকে মাতবে, হুজুকে করবে—ভালোর সঙ্গ ছেড়ে ভালোকে করবে ঘৃণা এবং মন্দের সঙ্গ দিয়ে মন্দের পিছে দৌড়াবে! এটা মানুষের স্বভাব কেন বা আদত—বুঝি না।

চলবে…

Name of author

Name: আযাহা সুলতান

৯ Replies to “অনেক কথা (পর্ব ৫)”

মন্তব্য করুন