জলছবি প্রকাশন

সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান

Home » অনেক কথা (পর্ব ৪)

অনেক কথা (পর্ব ৪)

ঐশ্বরিক—

‘আল্লাহ্‌ মহান আল্লাহ্‌ মহীয়ান

আল্লাহ্‌ রহিম ও রহমান

আল্লাহ্‌ বিধান আল্লাহ্‌ বিধিয়ান

আল্লাহ্‌ দরদি ও দয়াবান’

 

* অন্ধধার্মিক আর অধার্মিকের মধ্যে ধরতে গেলে কোনো পার্থক্য নেই। হাঁ, পার্থক্য একটা হতে পারে—অন্ধধার্মিক কোনকিছু না জেনে না বুঝে রতব্রত হয় আর অধার্মিক জেনেবুঝে বিব্রত বা বিরত থাকে। এমন ধার্মিক আর অধার্মিকের হয়ত গতি এক। ধর্ম বিশ্বাসের ব্যাপার—ঠিক আছে। কিন্তু, চোখবুজে অন্ধের মতো সবকিছু ঠিক ভেবে মেনে নেওয়া ধর্মেরও বিরুদ্ধে যায়। তাই আমি অন্ধধার্মিকও হতে পারিনি এবং অধার্মিকও নই। ধর্মে আমিও ভীষণ বিশ্বাসী। আমি জানি, আমার সৃষ্টির মালিক স্রষ্টা একজন আছেন। আমার জীবনমৃত্যু তাঁরই হাতে। আমার বিচারক তিনি। আমার মুক্তিদাতা তিনি। আমাকে চালাচ্ছেন তিনি। তাঁরই আদেশক্রমে আমি চলছি। কারণ, মন মানুষের হলেও মনের মালিক মানুষ নয়। তা হলে? কার থেকে আমি উপদেশ নেবো? কাকে আমি উপদেশ দেবো? কে আমাকে পথ দেখাবে? কে বলতে পারে? কোথায় আমার গন্তব্য? কে দেবে সঠিক সন্ধান? চার দিকে ভণ্ড আর ভণ্ডামি! পীরের জায়গায় পীর নেই! মুরিদের মধ্যে মুরিদ নেই! দরবেশের মুখে মুখোশের দাড়ি! মানুষ চিনব কী করে আমি? আমাকে দিশার পথ দেখাবে তুমি? তা হলে শোনি, তুমি কোন্‌ ওহিপ্রাপ্ত দিশারি? বন্ধু, নিজের নিজেকে নিয়ে ভাব। আমার মধ্যে যখন দাজ্জালের ছায়া নেই, তোমার মধ্যে কিসের ঈসা-মেহেদি? আমি অন্যের পারের চিন্তা না করে, আমার নিজের পারের চেষ্টা করলে হয়ত হলেও হতে পারে আমার নিজের পথ সুগম। এই যে অসুন্দরের বোঝা সম্বল করে সুন্দরের ধর্মকে অন্তত আমি অসুন্দর করতে পারব না, আমার পরিণতির কথা পরে। আমি সুন্দরের পৃথিবীতে অসুন্দর কায়েম করতে আসিনি। ক্ষমাপ্রার্থী। আমি এও জানি, যার যার ভার তার তার বোঝা। আমি আমার বোঝার ভারে নাহয় রইলাম পিছে। বন্ধু, তুমি তোমার শ্রীহীন কর্মকাণ্ডে থেকো না অপরাধীর কাতারে। কারণ, যারা সুন্দরকে ভেঙেচুরে অসুন্দর বানায় তারা সুন্দরের কাছে বড় দায়ী। আল্লাহ্‌ প্রত্যেক মানুষকে বিবেকবুদ্ধি দিয়েছেন এবং প্রত্যেক মানুষকে দায়িত্বশীল করেছেন। প্রত্যেক মানুষেরই মনে করি—পরিবারের প্রতি, সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি এবং দশের প্রতি একটা দায়িত্ববোধ আছেই বা থাকা উচিত। তাই বলে মানুষের বানানো কোনো বিশ্রী জিনিসকে অবলম্বন করে ধর্মকর্মের পুণ্যে যোগ করে দেওয়া কি আদৌ পুণ্যের? মঙ্গল যার হয় জঙ্গলেও হয়। মঙ্গলের কাজ করতে হলে যেকোনো উপায়ে করা যায়, তজ্জন্যে ধর্মকে আশ্রয় করতে হয় না। পুণ্য যেকোনো ভালো কাজে আছে। সেটা ধর্ম হোক অথবা অধর্ম। সেটা যার যার সাধ্যমতো—যার যার অবস্থান থেকে করতেই হবে, নইলে আল্লাহ্‌র কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচা দায়। নাফরমানির শাস্তি কখনো-না-কখনো মানুষকে ভোগ করতেই হয়। অন্যের জন্যে কিছু করতে পারাটা মানে নিজের জন্যে কিছু করা। তাই বলে এ নয় যে, সংসার ছেড়ে গাঁট্টিগাঁঠুরি কাঁধে নিয়ে মসজিদে মসজিদে দ্বারে দ্বারে দেশবিদেশ ভ্রমণ করতে হবে! আল্লাহ্‌ দাম্ভিকতা, জালিমি ও কার্পণ্যকে যেমন পছন্দ করেন না, তদ্রূপ কোনধরণের সন্ন্যাসব্রতও পছন্দ করেন না। আল্লাহ্‌ অতীব সুন্দর। তাই সুন্দরকে বিশেষভাবে ভালবাসেন এবং পছন্দ করেন। তাই এমন অসুন্দরের থেকে অন্তত আল্লাহ্‌ আমাকে পানা দিক্‌। সোয়াব-গোনা সম্পূর্ণটাই নিজের কাজের উপর। সেটা কামাই করতে হলে কোনধরণের ভ্রমণের দরকার আছে বলে মনে হয় না। নাইবা রইলাম আমি গুমরাহ। কিন্তু এ যুক্তিটা বুঝে আসে না, তোমাকে কোন্‌ নবিরসুল বা বার্তাবাহক করে আল্লাহ্‌ দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন? আমাকে নিয়ে বা দলবেঁধে তোমার হিজরত করতে হবে! তা হলে? দীনদুনিয়ার জন্যে তোমার এত দায়িত্ব বেড়ে গেল কেন? হেদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। যাঁকে তিনি হেদায়াত দান করবেন, সে ঠিকই সঠিক পথ খুঁজে পাবেন আর সেটা ওঁর জন্যেই হবে মঙ্গল। বাবা, তুমি তোমার কী মূলধন জোগাড় করতে পেরেছ সেটা ভালভাবে হিসেব করে দেখ। আল্লাহ্‌‌র সাক্ষাৎ দূরে, সন্তুষ্টিও এত সহজ না। থাক গে, আমার ভাগ্যে নাই-ই মিলল মালিকের সাক্ষাৎ; তুমি সৌভাগ্যবান হও, শোনতে পারবে দাউদের কণ্ঠে মধুর কুরআনপাঠ।

চলবে…

Name of author

Name: আযাহা সুলতান

৬ Replies to “অনেক কথা (পর্ব ৪)”

মন্তব্য করুন